ইসলামী বিচারব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব [প্রথম পর্ব]

বিচার ও ইনসাফ প্রতিটি মানুষের অতি স্বাভাবিক অধিকার। আলো বাতাস, পানি, অক্সিজেন প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন দেশের প্রতিটি মানুষই পেতে পারে, এ অধিকার হতে কেউ কাউকে বঞ্চিত করতে পারেনা, তেমনি সুবিচারও। এ ব্যাপারে ইসলাম মানুষের মাঝে কোন পার্থক্য করেনা । ইসলাম মানুষের সুবিচার নিশ্চিত করাকে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব বলে মনে করে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারীমে বলেন, وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُواْ بِالْعَدْلِ তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে, তখন ন্যায় পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,  وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ  অর্থাৎ, আর আমি তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায় নীতি যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। (সূরা হাদিদ, আয়াত: ২৫)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤدُّواْ الأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا  অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমানতসমূহ উহার হকদারকে প্রদান করতে। (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৮)

কিন্তু দুনিয়ার গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ ও কমিউনিজম প্রভৃতি শাসনব্যবস্থার অধীনে অস্বাভাবিকভাবেই মানুষে মানুষে পার্থক্য করা হয়। এমনকি বিচার ও ইনসাফ সেখানে সকল মানুষের পক্ষে সুলভ নয়। বিচারের ক্ষেত্রেও নিগৃহিত হয় সমাজের গরীব মানুষগুলো। আবার ধনী শ্রেণী গুরুতর অপরাধ করেও সহজেই পার পেয়ে যায়। এখানেই মূলত জাগতিক বা মানুষের তৈরি বিচারব্যবস্থার উপর ইসলামী বিচারব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব।

জাগতিক বিচারব্যবস্থার উপর ইসলামী বিচারব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্বের কারণ ও প্রকৃত পক্ষে এই কথাটি-ই আসল সত্য কথা। আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ অর্থাৎ, জেনে রাখ সৃষ্টি ও আদেশ তারই। (সুরা আরাফ, আয়াত: ৫৪)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللّهُ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ, فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ  অর্থাৎ, আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে যারা বিধান দেয় না তারাই কাফের। (অন্যত্র বলেন) তারাই জালেম। (সূরা মায়িদাহ, আয়াত: ৪৪-৪৫)।

মূলত আল্লাহ তায়ালার বিধান অনুযায়ী বিচারকার্জ পরিচালনা করা প্রতিটি মানুষের একান্ত কর্তব্য। প্রকৃত পক্ষে এক সৃষ্টি অপর সৃষ্টিকে পরিচালনা বা বিচার করার বিধান দানকারী, না স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে পরিচালনার বিধান দানকারী এটাই মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ

অর্থাৎ, তবে কি তারা জাহিলি যুগের বিধি বিধান কামনা করে? নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠ? (সূরা মায়িদা, আয়াত: ৫০)

আজ মানুষের তৈরি বিচারব্যবস্থায় সমাজ পরিচালনার কারণে সমাজে প্রতিনিয়ত খুন, হত্যা, রাহাজানি, ধর্ষণ বেড়েই চলছে। নিম্নে আল্লাহর দেয়া বিচারব্যবস্থার সাথে মানুষের তৈরি বিচার ব্যবস্থার অসাড়তা যুক্তি ও কুরআন হাদীসের দলীল দ্বারা প্রমাণ করা হল।

বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

মূলত রাষ্ট্রে আইনকে সু-প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য হল সমাজে ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা, ধনী। সবল, দরিদ্র, দূর্বল, নির্বিশেষে সবার জন্য সমতার ভিত্তিতে ফায়সালা করা। ইসলামে এর যথার্থ প্রমাণ বিদ্যমান। হযরত ওমর রা. মদ্যপানের অপরাধে আপন পুত্রকে দোররা মারেন। ফলে পুত্র আবু শাহমা ইন্তেকাল করেন। কিন্তু আধুনিককালের মানবরচিত বিচারব্যবস্থা শুধু দুনিয়া কেন্দ্রীক, আখিরাতের সাথে যা সম্পর্কহীন। তাই তাদের এই বিধানে ধনী দরিদ্রে যেমন বিস্তর ফারাক রয়েছে তেমনি এই বিচারব্যবস্থা সমাজে পরিপূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। যার প্রমাণ বর্তমান কলুষিত বিশ্ব।

  • বিচার ব্যবস্থায় সুবিচারের স্বরূপঃ

ইসলামী রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। আল্লাহ তা’আলা সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে পিতা মাতার বিরুদ্ধে হলেও সাক্ষ্য প্রদানের আদেশ করেছেন। কুরআনের ভাষায়- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُونُواْ قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاء لِلّهِ وَلَوْ عَلَى أَنفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالأَقْرَبِينَ إِن يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقَيرًا فَاللّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلاَ تَتَّبِعُواْ الْهَوَى أَن تَعْدِلُواْ وَإِن تَلْوُواْ أَوْ تُعْرِضُواْ فَإِنَّ اللّهَ كَانَ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرًا

অর্থাৎ, হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত। (সূরা নিসা, আয়াত: ১৩৫)

ইসলামী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রাপ্তির জন্য খলিফাকেও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। হযরত আলী রা. বর্ম হারিয়ে যাওয়ার পর তা এক ইয়াহুদির নিকট দেখতে পেয়ে তিনি তা ফিরে পেতে বিচারকের দারস্থ হন। বিচারক তাকে সাক্ষী পেশ করতে বললে তিনি তার পূত্র ও দাসকে সাক্ষী হিসেবে পেশ করেন। বিচারক বললেন, পুত্রের সাক্ষী পিতার পক্ষে এবং কৃতদাসের সাক্ষী মনিবের পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। ফলে বর্মটি অভিযুক্ত ব্যক্তিরই রয়ে গেল। পরবর্তিতে ইয়াহুদীটি এই বলে ইসলামে দাখিল হয় যে, যে ধর্মে এইরুপ সুবিচার বিদ্যমান তা মিথ্যা ধর্ম হতে পারে না।

অপর দিকে জাগতিক বিচার ব্যবস্থায়, রাষ্ট্রের কর্তাগণ নিজেদেরকে বিচারের উর্ধ্বে মনে করেন। এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, Rane i The president shall have power to grant pardons. Reprieves and respites and to remit suspend or commute ony sentence passed by ony courttribunal or হাজির করা হয়। তধ্যে একজন শ্বেতাঙ্গ মহিলাকে ধর্ষণ করেছিল। বিচারে তার ফাঁসীর হুকুম হয়। এর একজন কৃষ্ণাঙ্গ অপরজন শ্বেতাঙ্গ। আসামীটি একজন কালো ব্যক্তিকে বেত্রাঘাতে জর্জরিত করে আগুনে পুড়ে মেরেছিল । বিচারে তার ২০ পাউন্ড জরিমানা হয় এবং তা মাসিক কিস্তিতে আদায়ের সুবিধা দেয়া হয়। ফিল্ড মার্শাল স্মার্টসের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা একটি সভ্য গণতান্ত্রিক দেশ বলে দাবি করে কিন্তু সেখানকার সুবিচারের নমুনা দেখে বুঝা যায় তা কত সভ্য ও গণতান্ত্রিক। কেরালায় কমিউনিস্ট সভা গঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে সব বিপ্লবাতুক কার্যক্রম করেছে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে এই যে, সেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদীদের শাস্তি হ্রাস করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দানের সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। এভাবে অসংখ্য রাজনৈতিক অপরাধীকে মুক্তিদান করা হয়েছে। মূলত তারা সবাই ছিল কমিউনিস্ট । বিগত দিনে একজন কমিউনিস্ট জনৈক কংগ্রেস কর্মীকে হত্যা করেছিল এবং তাকে মৃত্যুদণ্ডদানের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। নির্বাচনের পরবর্তী ১৫ এপ্রিল তাকে এই দণ্ডদানের তারিখও নির্দিষ্ট হয়েছিল। কিন্তু কমিউনিস্ট সরকারে এই বিপ্লবাত্বক কার্যক্রমের সাহায্যে তাকে মৃত্যুদণ্ডের হাত হতে রক্ষা করা হয়। মূলত বিশ্বের মাঝে মানুষের তৈরি বিচারব্যবস্থা এই রুপ হাজার হাজার অনিয়মে পূর্ণ। তাই বলা যেতে পারে জাগতিক বিচারব্যবস্থার উপর ইসলামী বিচারব্যবস্থা শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতার স্বরূপঃ

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা বলতে বুঝায় আইন অনুযায়ী সরকারের বিচারকার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার অবলম্বন। এজন্য বিচারবিভাগ সর্বপ্রকার হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকতে হবে। উপমহাদেশের অন্যতম ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা “আঃ রহিম” তার রচিত “আল কুরআনের রাষ্ট্র ও সরকার” বইয়ে বর্ণনা করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হল যে বিচার বিভাগে বিচারক থাবে বহিঃপ্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে কোনরূপ ভয়ভীতি বা লোভের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত অবস্থায় প্রত্যেকটি মামলার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বিচার চালিয়ে যেতে পারে। এ অবস্থাকেই বিচার বিভাগের স্বধীনতা বলা হয় । Lord bryce এর ভাষায়, কোন দেশের সরকারের কর্তৃত্ব পরিমাপ করার সর্বোত্তম মাপকাঠি হচ্ছে তার বিচার বিভাগের দক্ষতা ও যোগ্যতা। Prof Gorner এর ভাষায়, 160 it the judges wisodom probity ond freedom of decision the ligh purposes for culich the judiciary is established cannot be secered.

ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ হতে সম্পূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীন মর্যাদা দান করেছে। শাসনবিভাগ যদিও বিচার বিভাগ গঠন করবে। কিন্তু বিচার বিভাগ সমগ্রভাবে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করবে এবং তারই সমীপে দায়ি থাকবে। ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলিম, অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের ক্ষেত্রে বিচারকের নিরপেক্ষ বিচারদণ্ড সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। এমনকি বিচারকের মনে নির্দিষ্ট কোন জাতির প্রতি বিদ্বেষও থাকতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ كُونُواْ قَوَّامِينَ لِلّهِ شُهَدَاء بِالْقِسْطِ وَلاَ يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلاَّ تَعْدِلُواْ اعْدِلُواْ هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُواْ اللّهَ إِنَّ اللّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ অর্থাৎ, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার কর এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে খুব জ্ঞাত। (সূরা মায়িদা: ৮)

অথচ জাগতিক বিচার ব্যবস্থায় মূলেই গলদ বিদ্যমান। বাংলাদেশের সংবিধানের ৫১নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের উর্ধ্বে স্থান দেয়া হয়েছে। যা তাকে যেমন করেছে দুর্নীতিবাজ তেমন একনায়কতান্ত্রিক। সংবিধানের ভাষায়-

51(1) without prejudice to theprovisions of article

  1. The president shall not be onswerable in ony court for ony thing done or omitted by lim in the exercise. Of the functions of this office But this clause shall not prejudice the right of ony person to take proceedings against the Government.

(2) During his term kof office no criminal proceedings whatsoever shall be instituled or con tinued against the president in and bo process for lis arrest or imprisonment shall issue from any court. এমনকি এই আধুনিক কালেও বিশ্বের অতি উন্নত রাষ্ট্র ইংল্যান্ড এর বিচার বিভাগ পালামেন্টের নিয়ন্ত্রণাধীন। সুতরাং এই আলোচনা থেকে প্রমাণিত হল ইসলামই আরও চৌদ্দশত বছর পূর্বে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রদান করেছে। জাগতিক বিচার বিভাগগুলো আজও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন। এইতো বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগকে স্বাধীন ঘোষণা করা হলেও এখনও সরকারের নিয়ন্ত্রনাধীন।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার উপায়ঃ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের নিম্নোক্ত কাজগুলো আঞ্জাম দিতে হবে যথাঃ-

(১) বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রীকরণ ও স্বাধীনতাঃ- এ প্রসঙ্গে prof laski মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন The independence of thejudiciry is essential to freedom in that senses the doctrine of separation of powers enshrines permanent thruth. ইসলামের মতেও বিচারকের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জরুরী। ইসলাম তা প্রতিষ্ঠা করলেও জাগতিক বিচার ব্যবস্থার শাসকবৃন্দ আপন স্বার্থ রক্ষার জন্য বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেনা।

(২) বিচারকদের কার্যকাল ও স্থায়ীত্বঃ- বিচারকদের কার্যকালের স্থায়ীত্ব বিচারকদের নিশ্চিন্তে বিচার করার সুযোগ করে দেয়। তাই সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে বিচারকদের কার্যকালের মেয়াদ স্থায়ী থাকা জরুরী।

(৩) বেতন ভাতার সুযোগ সুবিধাঃ- other authority থাকা জরুরী । কারণ উচ্চ বেতন ও নিরাপত্তা তাদেরকে সঠিক বিচার করতে উৎসাহিত করে।

(৪) বিচারকদের পদোন্নতিঃ বিচারকদের কর্মক্ষমতা নির্ভর করে তাদের কর্ম সম্পাদনের ইচ্ছার উপর। এ ইচ্ছা আবার নির্ভর করে পদোন্নতির আশার উপর। তাই বিচারকদের পদোন্নতির বিষয়টি ইসলামী বিচারব্যবস্থায় অতিব জরুরী। বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় পদোন্নতির ক্ষেত্রে দূনীতির আশ্রয় নেয়া হয় এবং প্রকৃত অধিকারীকে বঞ্চিত করা হয়।

(৫) বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত রাখাঃ বিচার বিভাগ এর স্বাধীনতার মূলশর্ত হল বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত রাখা। ইসলাম বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করলেও জাগতিক বিচার বিভাগের বেশিরভাগ দেশে বিচার বিভাগ শাসন বিভাগের আওতাধীন।

  • বিচার বিভাগের লক্ষ্য অর্জনের পন্থাঃ

বিচার বিভাগ ও বিচার বিভাগীয় কর্তৃত্ব কি করে তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে এবং সমাজে সুবিচার ও পরিপূর্ণ ন্যায় পরায়ণতা কি করে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব তাই হচ্ছে এ পর্যায় প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিচার বিভাগের মৌলিক লক্ষ্য চারটি বিষয়ের সুষ্ঠু ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে।

(১) বিচারকের যোগ্যতা কর্ম ক্ষমতা এবং বিচারক হওয়ার উপযোগিতা।

(২) বিচারকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা, স্থিতিশীলতা, মুখাপেক্ষীহীনতা ও পূর্ণ স্বাধীনতা।

(৩) বিচারের নিয়ম কানুনের পূর্ণ কার্যকারিতা।

(৪) বিচারকের নিকট জনগণের অধিকারের সু-স্পষ্ট ধারনা, কাৰ্যসূচী এবং ন্যায় বিচারের রায়ের বাধা বিঘ্নহীন কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা বর্তমান থাকা।

ইসলামী বিচার ব্যবস্থায় এই সব কয়টি দিক পর্যাপ্ত বিদ্যমান। কিন্তু জাগতিক বিচার ব্যবস্থায় চারটি বিষয় পরিপূর্ণ বিদ্যমান নয়। নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

  • বিচারকের যোগ্যতা, কর্মক্ষমতা ও বিচার কার্যের উপযুক্ততাঃ

বিচার বিভাগ সমাজে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে। যদি বিচারকের প্রকৃত যোগ্যতা কর্মক্ষমতা ও সৌজন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ততা বিচারক এর মধ্যে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যমান থাকে। জাগতিক বিচার ব্যবস্থায় বিচারকের জন্য যে শর্তাবলী বিদ্যমান তা একেবারেই নগন্য। বাংলাদেশের সংবিধানে বিচারক নিয়োগের জন্য যে শর্তাবলী বিদ্যমান।

95.(1) The celief justice shall be appointed by the president, and the other judges shall be appointed by the president often consultation ceith the clief justice. as a judge unless le is a citizen of Bangladesh and (a) lis for not less thanten years been on advocate of supreme court on (b) has for not less’ then ten years held judicial affice on been an advocate in the territory of Bangladesh and his for bot less than three years enercesed the pdwers of a deslrict judge.

এখানে নৈতিকতার কোন আলোচনা বিদ্যমান নেই। একমাত্র ইসলামই কেবল বিচারক নির্বাচনের প্রকৃত শর্তাবলী আলোচনা করেছে। শর্তগুলো নিম্নরুপঃ

(১) পূর্ণ বয়স্কতা।

(২) বিবেক বুদ্ধির সুস্থতা।

(৩) ঈমানদার হওয়া।

(৪) মৌলিকভাবে ন্যায় নিষ্ঠতা ও পক্ষপাতহীনতা।

(৫) জন্মের পবিত্রতা।

(৬) আইন সম্পর্কে পূর্ণ মাত্রায় গুণ ও বিচক্ষণতা।

(৭) বিচারক পুরুষ হওয়া।

(৮) বিচারকের স্মরণ শক্তির তীক্ষ্ণতা, মেধা ও প্রতিভা। রাসূল স. বিচারকের পদের গুরুত্ব বুঝাতে এবং তার মর্যাদা, তার দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিরাট সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোরতা আরোপ করেছেন।

[চলবে…]

Related posts

Top