ইসলামী বিচারব্যবস্থার শ্রেষ্ঠত্ব [দ্বিতীয় পর্ব]

  • বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতিঃ

বিচারপতি নিয়োগ পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত যেন তারা শাসন বিভাগ বা অন্য কারো উপর নির্ভরশীল না হন। জাগতিক বিচারালয়ে বিচারপতি নিয়োগের তিনটি পদ্ধতি বিদ্যমান।

(ক) জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচন।

(খ) আইনসভা কর্তৃক মনোনয়ন ।

(গ) শাসন বিভাগ কর্তৃক নিয়োগ।

ইসলামে শাসন বিভাগ কর্তৃক বিচারক নিয়োগ করা হয়। তবে বিচার বিভাগ স্বাধীন হওয়ায় এবং বিচারক মুত্তাকি হওয়ায় শাসককেও বিচারের জন্য বিচারকের কাঠগড়ায় দাড়াতে হয় ।

  • আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থে বিচারক নিয়োগের তিনটি পদ্ধতি হলঃ

(১) রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োগ।

(২) প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুলক পরীক্ষার মাধ্যমে।

(৩) বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে।

কিন্তু ইসলাম বিচারক নিয়োগে জ্ঞান ও তাকওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এ ব্যাপারে ইরশাদ হয়েছে- اعْدِلُواْ هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى সুবিচার কর এটাই খোদাভীতির অধিক নিকটবর্তী। (সূরা মায়েদা: ৮)

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বিচার বিভাগের উচ্চহারে বেতন ভাতা ও বিচার বিভাগের কার্যাবলী।

জাগতিক বিচারব্যবস্থায় বিচারবিভাগের কার্যাবলী নিম্নরুপঃ

(১) প্রশাসনের সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদের বিচার করে প্রশাসনিক আদালত।

(২) সংবিধানের ব্যাখ্যা ও বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধের মিমাংসা এ সকল বিষয়ের আইনগত সমাধান করে সাংবিধানিক আদালত।

(৩) ফৌজদারি আদালতের কাজ হলো কোন ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করলে তার শাস্তি বিধান করা ।

অধ্যাপক অ্যালেনবল বিচার বিভাগের কাজকে মোট চার ভাগে ভাগ করেছেন।

(১) বিচার বিভাগীয় সমীক্ষা ও সংবিধানের ব্যাখ্যা সম্পর্কিত কাজ।

(২) রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি সম্পর্কিত কাজ।

(৩) বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন মূলক কাজ।

(৪) ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ সম্পর্কিত কাজ

অধ্যাপক অ্যালেনবল বলেন, The courts will have varicus funetions to perform in the political system depending on the degree of speciali zation involved.

ইসলামী বিচার ব্যবস্থায় বিচার বিভাগের কার্যাবলী নিম্নরুপঃ

(১) বিচার করাঃ- এ বিভাগের প্রধান কাজ হল ইসলামী আইন অমান্য কারীদের বিচার করা। যেহেতু ইসলামী আইন আল্লাহ প্রদত্ত তাই মানব রচিত বিচার ব্যবস্থার মত আইন প্রণয়ন করতে হয়না। আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ নিশ্চয় আল্লাহ

ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দেন। (সূরা নহল: ৯০)

(২) বিচারক নিয়োগঃ- এই বিভাগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল যোগ্যতাসম্পন্ন বিচারক নিয়োগ করা। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলাম বিচারক হওয়ার জন্য কতিপয় গুণকে বাধ্যতামূলক করেছে।

(৩) আইনের ব্যাখ্যা প্রদানঃ- বিচারকগণ শুধু রায়ই প্রদান করেন না। বরং আইনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে থাকেন। যেসব বিধান প্রত্যক্ষভাবে ইসলামে নেই সে সম্পর্কে আইন সৃষ্টি করেন।

(৪) আইনের প্রয়োগঃ- বিচার বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ  অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও ন্যায়নীতি, যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। (সূরা হাদিদ: আয়াত: ২৫)।

(৫) পরামর্শদানঃ- বিচারবিভাগ পরস্পর পরামর্শের আলোকে পরিচালিত হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, وَشَاوِرْهُمْ فِي الأَمْرِ  অর্থাৎ, কাজ কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ কর (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)

(৬) মৌলিক অধিকার সংরক্ষণঃ- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা এগুলো মানুষের নৈতিক অধিকার, অনেক সময় এই নৈতিক অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব বিচার বিভাগের উপর ন্যাস্ত হয়। এ উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগ বিভিন প্রকার নির্দেশ জারী করে থাকে। কুরআনের ভাষায়- وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُواْ أَيْدِيَهُمَا অর্থাৎ, পুরুষ চোর এবং নারী চোর, তাদের হস্তচ্ছেদ কর। (সুরা মায়িদা: আয়াত: ৩৮)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ অর্থাৎ, ব্যাভিচারিনী ও ব্যভিচারী উহাদের প্রত্যেককে এক শত কশাঘাত করবে। (সুরা নূর, আয়াত: ২)

এ ছাড়াও বিচার বিভাগ বিরোধের নিষ্পত্তি, তদন্তমূলক কার্য পরিচালনা করা, পারিবারিক বিবাদ মিমাংসা করার কাজ করে। অপরাধিকে শাস্তি প্রদান উত্তরাধিকারের সম্পদ বন্টন বা সংরক্ষণ, ইয়াতিম, মজলুমের অধিকার সংরক্ষণ, ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা প্রভৃতি কাজগুলোও ইসলামি বিচার ব্যবস্থাকে আঞ্জাম দিতে হয়। মূলত ইসলামী বিচার বিভাগের কার্যাবলী অতি ব্যাপক।

  • সুবিচারনীতির পূর্ণ সংরক্ষণঃ

ইসলাম শুধু বিচারের উপরই গুরুত্বারোপ করেনি বা বিচারকের নির্দিষ্ট কয়েকটি গুণ থাকার শর্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি; বরং বিচারকার্য সম্পাদনের জন্য কতিপয় নিয়মনীতি নির্দিষ্ট ও কার্যকর করেছে। বিচারকের জন্য তা পালনীয় করে দিয়েছে। কিন্তু জাগতিক বিচার ব্যবস্থা এ বিষয়টিতে সমপূর্ণরুপে জাতিকে অন্ধকারে রেখেছে। জাগতিক বিচার ব্যবস্থায় সুবিচার নীতির পূর্ণ সংরক্ষণের কথা থাকলেও এ জন্য কোন পদ্ধতির প্রতিক বলে দেয়নি। এ ব্যাপারটিতে তাই সভাবতই ইসলামী বিচার ব্যবস্থা শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার। মূলত বিচারের নিয়মনীতি দুই ধরণের। এক ধরণের নিয়মনীতি পছন্দনীয় অপর ধরনের নিয়মনীতি অপছন্দনীয়।

  • পছন্দনীয় নিয়ম নীতিসমূহ:

ক) বিচারকের নিজস্ব ক্ষমতাধীন এমন এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করতে হবে যে জনগণের যাবতীয় সমস্যা ও মামলা তার সম্মুখে একের পর এক পেশ করবে। সাথে বিচার করবে। কুরআনের ভাষায়- وَإِذَا حَكَمْتُم بَيْنَ النَّاسِ أَن تَحْكُمُواْ بِالْعَدْلِ আর যখন তোমরা মানুষের কোন বিচার-মীমাংসা করতে আরম্ভ কর, তখন মীমাংসা কর ন্যায় ভিত্তিক। (সূরা নিসা: ৫৮)

খ) বিচারকের আদালত কক্ষ প্রশস্ত, প্রকাশ মান ও সু-পরিবেশ সম্পন্ন হতে হবে।

গ) আইন বিদদের এমন এক সমষ্টি তার নিকট উপস্থিত থাকতে হবে, যেন বিচারক ভুল করে বসলে তারা তাকে সংশোধন করে দিতে পারে।

ঘ) পক্ষ দ্বয়ের মধ্যের কেউ সীমালংঘন মূলক কাজ করলে তাকে নম্রতা সহকারে বুঝিয়ে দিতে হবে ও তাকে ক্ষান্ত হতে বাধ্য করতে হবে।

  • অপছন্দনীয় নিয়ম নীতি:

ক) বিচারের সময় দ্বাররক্ষী নিয়োগ করা

খ) ক্রুদ্ধ হয়ে রায় লেখা ও দেওয়া।

গ) রায় লেখার সময় ক্ষুধা, পিপাসা, দুশ্চিন্তা গ্রস্থতা, অত্যাধিক আনন্দ-ফুর্তি প্রভৃতিতে রায় লেখার কালে মশগুল থাকা উচিত নয়।

ঘ) খুব তাড়াহুড়া করে গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা না করে রায় লেখা উচিত নয় ।

  • ইতিবাচক বাধ্যবাধকতা:

১) সালাম, সম্পাদন প্রদর্শন, আসন গ্রহণ, দৃষ্টিদান, কথা-বার্তা বলা, লক্ষ্য আরোপ করা প্রভৃতির দিক দিয়ে পক্ষ দ্বয়ের মধ্যে পূর্ণ সমতা রক্ষা করা।

২) এক পক্ষকে অপর পক্ষের জন্য ক্ষতিকর বিষয়াদি ও পরামর্শ না দেওয়া।

৩) একজনের সহিত আগ্রহে কথা না বলা, যার দরুণ অপর পক্ষ নিজেকে অপমানিত ও অসহায় বোধ করতে বাধ্য হয়।

৪) দুই পক্ষই যখন মামলায় প্রস্তুত হবে এবং বিচারের বিষয়টিও সুস্পষ্ট হবে তখন বিচারকার্য সম্পাদন করা কর্তব্য।

৫) মামলা যে পরম্পরায় দাখিল হবে বিচার সেই অনুযায়ী সমাধান করতে।

৬) বিবাদি যদি এমন কোন দাবি করে যার ফলে বাদির দাবি চুড়ান্ত হয়ে যায়, তাহলে তা অবশ্যই শুনতে হবে এবং জওয়াব জেনে নিতে হবে ।

৭) বাদী পক্ষ বা বিবাদী পক্ষ নিজ নিজ দাবি প্রত্যাহার করলে মামলা খারিজ করে দেবে।

  • সাক্ষ্যগ্রহণ আইন:

নিরপেক্ষ ইনসাফের জন্য নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ একান্ত আবশ্যক। পক্ষান্তরে নির্ভুল প্রমাণ হতে পারেনা যদি নিরপেক্ষ ও স্পষ্ট সত্যবাদী সাক্ষী না পাওয়া যায়। মানব রচিত বিধানের বিচারও সাক্ষ্য ব্যতীত সম্ভব নয়। কিন্তু সেখানে সাক্ষীর সত্যবাদী হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সাক্ষী যদি এজলাসে দাড়িয়ে পরিস্কার মিথ্যা কথা বলে কেটে যেতে পারে তবে সেই মিথ্যা সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই অন্যায় রায় প্রদানে কোনরুপ বাধা হয়না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার বিধান হলো প্রতিটি ব্যাপারে বিচার ও রায়দান সম্পর্কে বিশ্বস্ত ও সত্যবাদী সাক্ষী হবে। শাসন বিভাগ অনৈতিক কাজ করলে প্রয়োজনে বিচার বিভাগ শাসন বিভাগকে জবাবদিহীতার আওতায় আনবে। মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীদের সম্পর্কে আল্লাহর বাণী- هَاأَنتُمْ هَـؤُلاء جَادَلْتُمْ عَنْهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فَمَن يُجَادِلُ اللّهَ عَنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَم مَّن يَكُونُ عَلَيْهِمْ وَكِيلاً অর্থাৎ, দেখ, তোমরাই ইহজীবনে তাদের পক্ষে বিতর্ক করতে : কিন্তু কিয়ামতের দিন আল্লাহর সম্মুখে তাদের পক্ষে বিতর্ক করবে তখন কে তাদের উকীল হবে। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৯)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنكُمْ وَأَقِيمُوا الشَّهَادَةَ لِلَّهِ অর্থাৎ, তোমাদের মধ্য হতে দুইজন ন্যায়পরায়ণ লোককে সাক্ষী রাখবে। ( সুরা তালাক, আয়াত: ২)

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- وَاسْتَشْهِدُواْ شَهِيدَيْنِ من رِّجَالِكُمْ فَإِن لَّمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّن تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاء أَن تَضِلَّ إْحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى وَلاَ يَأْبَ الشُّهَدَاء

অর্থাৎ, দুজন সাক্ষী কর, তোমাদের পুরুষদের মধ্যে থেকে। যদি দুজন পুরুষ না হয়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা। ঐ সাক্ষীদের মধ্য থেকে যাদেরকে তোমরা পছন্দ কর যাতে একজন যদি ভুলে যায়, তবে একজন অন্যজনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।সুরা বাকারাহ: আয়াত: ২৮২)।

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- وَلاَ تَكْتُمُواْ الشَّهَادَةَ وَمَن يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آثِمٌ قَلْبُهُ

অর্থাৎ, তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। (সুরা বাকারাহ, আয়াত: ২৮৩)

  • ইসলামী আইনের বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনার জবাবঃ

বর্তমান জগতের লোকদের ধারনা এই যে, ইসলামী বিধানে চুরি ও জেনা ব্যভিচারের শাস্তি কঠোর, নির্মম ও বর্বরতাপূর্ণ। এ সম্পর্কে সংক্ষেপে বক্তব্য এই যে, সমাজের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে চুরি ও জেনার ইসলামী শাস্তি কঠোর বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু ইসলাম যে সমাজে এই শাস্তি প্রয়োগ করার নির্দেশ দেয়, সে সমাজে তা সামান্যতম কঠোর কিংবা বর্বর মনে হতে পারেনা। ইসলামী হুকুমতে নিয়ন্ত্রিত সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির সদুপায় অর্জিত ধন-সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ন দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এহেন রাষ্ট্রের অধিনে সমস্ত মানুষের জীবিকার দায়িত্বও সরকারের উপর ন্যস্ত । অন্নহীনের জন্য অন্নের যোগান করা, বস্ত্রহীনের জন্য বস্ত্রের ব্যবস্থা করা, গৃহহীনের জন্য ঘরের ব্যবস্থা করা, রুগ্ন ব্যক্তির জন্য ঔষধ-পথ্য ও শুক্রর আয়োজন করা প্রভৃতি রাষ্ট্রেরই ঐকান্তিক কর্তব্য। এ কথা ইসলামী হুকুমতের অধীন প্রতিটি মুসলিম নাগরিকের মনে সদা সর্বদা অবশ্যই স্বরণ থাকে যে, রাসূল স. বলেন, তুমি যদি খেয়ে পরিতৃপ্ত হয়ে সুখের নিদ্রায় অচেতন হও এবং তোমার প্রতিবেশী অনাহারে রাত কাটায় তবে তোমার ঈমান আছে বলে মনে করা যায়না। সমাজে এত সব ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ চুরি করে তবে তার হাত কাটা যাবে কেন এবং কাটা হলে তা অতিরিক্ত হবে কেন বরং এ অবস্থায় এই জাতীয় অপরাধ ক্ষমা করা হবে যুলুম । যার ফলে সমাজ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে। তাই চোরের হাত কাটা বর্তমান পুজিবাদী সমাজতান্ত্রিক বিচার ব্যবস্থায় যুলুম এর মত হতে পারে তবে ইসলামী রাষ্ট্রে ইহাই সঠিক বিচার।

আবার যে সমাজ পাশবিক লালসা সব সময় উত্তেজিত হয়ে আছে। যেখানে পর্দাহীনতা কুৎসিত নোভেল-নাটক, সিনেমার অশ্লীলতা, নগ্নতা ও লজ্জাহীনতার চরম পরাকাষ্ঠ হয়। যেখানে বিবাহ খুবই কঠিন এবং জেনা খুবই সহজ কাজ। এমন সব সমাজ জেনাকারীকে সংশোধন করার জন্য শরীয়তী শাস্তি দেওয়া অসমীচীন নয়। কারণ তা ইসলামী আইন জারী হওয়ার উপযুক্ত সময় নয় । কিন্তু ইসলাম যে সমাজ গঠন করে তাতে মানুষের লালসায় উত্তেজিত হওয়ার কোন অবকাশ থাকেনা। সেখানে নগ্ন ও অশ্লীল ছবির ছড়াছড়ি এবং পর্দাহীনতা থাকেনা। নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা হতে পারেনা । বিবাহ এই সমাজে খুবই সহজসাধ্য কাজ হয়ে যায়। এতদসত্বেও যদি কেউ জেনা করতে ঔদ্যত হয়। তবে তাকে দোররা মারা বা সঙ্গেসার করাই যথার্থ।

পরিশেষে বলতে হয়, মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিচালিত জাগতিক বিচার ব্যবস্থার কোনটিই পূর্ণ নয়। কোথাও বিচারকের অধিকার পূর্ণ থাকলেও বিচার প্রার্থির মাঝে শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টি করে মানবাধিকারকে প্রকাশ করা হয়েছে। মানুষের তৈরি বিচারব্যবস্থাগুলো ইহলোক কেন্দ্রীক, পরকালের সাথে যা সম্পর্কমুক্ত। ফলে বিচারকদের মাঝে আত্মশুদ্ধি অর্জনে তা পরিপূর্ণরূপে ব্যর্থ। আবার এসকল কারণে বিচার বিভাগই হয়ে পড়ছে দূর্নীগ্রিস্থ, এ যেন আত্মরক্ষার নিমিত্তে তৈরি দেয়ালে চাপা পড়ে মালিকের মৃত্যুর মত।

অপর দিকে ইসলামী বিচারব্যবস্থা ইহকাল ও পরকাল ব্যাপি। এখানে যেমন বিদ্যমান বিচারকের অধিকার তেমনি পরিপূর্ণ রয়েছে বিচার প্রার্থির অধিকার ও সুবিচারের নিশ্চয়তা। প্রকৃত ইসলামী বিচার ব্যবস্থা সকল জাগতিক বিচার ব্যবস্থার উপর শ্রেষ্ঠ। এ কথা সকলকে মানতে হবে।

গ্রন্থপূঞ্জি

১. আল কুরআনুল কারীম

২. বুখারী শরীফ

৩. মেশকাত শরীফ

৪. আল কুরআনে রাষ্ট্র ও সরকার, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম।

৫. ইসলামী রাজনীতির ভূমিকা, মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রহীম।

৬. হাদীস ও সামাজিক বিজ্ঞান ই. ফা, বা।

৭. বিষয়ভিত্তিক আল কুরআন, আইএসসিএ পাবলিকেশন্স।

৮. Introduction to Political Science, ইয়াসমিন আহমেদ, রাখী বর্মন।

৯.Oriental Political Thought, মুহাম্মাদ নূরুল আমীন।

Related posts

Top