ইসলামে বিনোদনের সীমারেখা

ইসলাম ধর্মে বিনোদন নিষেধ নয়, তবে বিনোদনকে গ্রহণ করা হয়েছে সর্তকতার সাথে । যেনো বিনোদনে মন্দ কোন বিষয়ের উঁকি-ঝুঁকি না দেয় ।  বিনোদন মজ্জাগত এবং এটা সর্বজন স্বীকৃত একটি বিষয়।

সংজ্ঞা : ইসলামি পরিভাষায়, খেলাধূলা ক্রীড়া-কৌতুক এমন সব কাজ বস্তু বা বিষয়কে বলা হয় যা মানুষকে আল্লাহর এবাদত ও স্মরণ থেকে গাফেল করে ফেলে। যার কোন উল্লেখযোগ্য উপকারিতা নেই কেবল সময় ক্ষেপন কিংবা মনোরঞ্জনের জন্য করা হয়।

আল্লাহ বলেন, মানুষের মধ্যে এক শ্রেণীর মানুষ এমন আছে যারা লাহওয়াল হাদীস তথা খেলাধূলা-কৌতুকাবহ কথা ক্রয় করে মানুষকে আল্লাহর পথ পদ্ধতি থেকে ভ্রষ্ট করার জন্য। আর এটা নিয়ে ঠাট্ট্র-বিদ্রুপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবনামনাকর শাস্তি। (সূরা লুকমান আয়াত ৬)

মৌলিক নীতিমালা : ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো খেলাধুলা জায়েজ নাজায়েজ বলে নি, বরং তিনটি শর্তের সাথে জায়েজ-নাজায়েজের সম্পর্ক, তা হলো ১. শারীরিক উপকার সাধন। ২. ইসলামি শরিয়াতের কোনো বিধান লঙ্ঘন না হওয়া। ৩. আর্থিক ক্ষতিসাধন না হওয়া। এ তিনটি শর্ত যে খেলার মাঝে পাওয়া যাবে তা জায়েজ, আর পাওয়া না গেলে জায়েজ নয়।

প্রথম লক্ষণীয় বিষয় এই যে, কোরআন পাক কেবল নিন্দার স্থলেই খেলাধূলা, ক্রিড়া-কৌতুকের উল্লেখ করেছে। এই নিন্দার সর্ব নিম্ন পর্যায় হচ্ছে মাকরুহ, আলোচ্য আয়াতটি খেলাধূলা ও অনর্থক কাজের নিন্দায় সুম্পষ্ট ও প্রকাশ্য। (রূহুল মাআনী, কাশ্শাফ)

দুররে মুখতার গ্রন্থকার বলেছেন, খেলাধূলা বৈধ হওয়ার জন্য পূর্বশর্ত হচেছ, তাতে হার জিতের ওপর বাজী ধরা যাবে না। জুয়ার চুক্তি করা যাবে না। খেলার অধ্যবসায় সদা-সর্বদা করা যাবে না। জীবনের আদর্শ উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট হিসেবে একে আজীবন করা যাবে না। খেলাধূলার কারণে ইসলামের অনুশাসন বাস্তাবায়নে কোন প্রকার বাধা সৃষ্টি হতে পারবে না। নতুবা তা হারাম হওয়ার বিষয়ে ফকীহগণ একমত।

ফতোয়ায়ে শামী গ্রন্থকার বলেন- খেলাধূলা, মেলা, অনর্থক, লাভহীন কথাবার্তা, কর্মকান্ড এবং এসব বস্তু তৃপ্তি সহকারে দেখা বা শুনা যেমন নৃত্য, উপহাস, করতালী, বীণার ধ্বনি, সঙ্গীতের সুরালাপ, হারমোনি, তবলা, বড়ঢোল প্রভৃতি বিষয় হারাম। খেলাধূলার বেশিরভাগ ধর্মদ্রোহী, ধর্মবিদ্বেষী অসৎ পতিতা ও অসাধু মানুষ অংশ না নেবে, কিন্তু যখন খেলার মাঠে বর্ণিত স্বভাবের লোকজনের আড্ডায় পরিণত হবে, তখন আর খেলা বৈধ থাকবে না।

বিনোদনের বৈধতা : হজরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদিন রাসূল সা. মদীনায় খেলাধূলায় মগ্ন একদল ছেলেদের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। আর আমি তিনির কাঁধের ফাঁক দিয়ে তাদের খেলা দেখলাম, রাসূল সা. বললেন, খেলাধূলা করো হে আরিফের ছেলেরা, এতে ইয়াহুদি ও নাসারাগণ আমাদের শরীয়তে আনন্দোদ্দীপনার সুযোগ আছে বলে জানতে পারবে, ছেলেরা বলতে লাগলো ধন্যবাদ আবুল কাসিম, ধন্যবাদ ।

আরেক হাদিসে আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, তিন খেলাই মুসলমানদের- এক. আপন স্ত্রীর সাথে অত্যধিক প্রেমভরে খেলা করা। দুই. স্বীয় অশ্বকে যুদ্ধ কৌশল শিক্ষা দেয়া। তিন. শত্রর মুকাবেলায় জয় লাভের জন্য তীর ছুড়া ছুড়ির প্রশিক্ষণ। (তিরমিজী ও আবু দাউদ)

অন্য হাদিসে আছে (তোমরা মাঝে মধ্যে) খেলাধূলা কর, কারণ আমি তোমাদের জীবন ব্যবস্থায় সম্প্রীতির অভাব অপছন্দ করি। (কানজুল উম্মাল)

বিনোদন হারাম হওয়ার কারণ : ক. দু’তরফা লেনদেন ও হার জিতের বাজি খেলা বা জোয়া খেলা করা। খ. আল্লাহর জিকির আযকার ও তার স্মরণ থেকে মানুষকে গাফিল করা। গ. বেশিরভাগ অধার্মিক ও অসাধু লোকজনের আড্ডা জমে উঠা। ঘ. খেলার অধ্যবসায় সদা-সর্বদা করা। ঙ. শারীরিক ক্ষতি সাধিত হওয়া। চ. আর্থিক ক্ষতি সাধন হওয়া। এগুলো যে খেলায় পাওয়া যাবে সেটা হারাম ও নিষিদ্ধ আর না পাওয়া গেলে বৈধ।

(সূত্র : খেলাধূলা ও আনন্দমেলা, মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল গফুর)

Top