বাস্তবতার নিরিখে শবে মেরাজ ও আমাদের করণীয়- ২য় পর্ব

পূর্ব প্রকাশের পর

দ্বিতীয় কথা : শবে মিরাজের তারিখ নির্ধারণ
মূলত রাসুল সা.-এর মিরাজ নিয়ে কোনো মতানৈক্য নেই। এটি সুসাব্যস্ত একটি বিষয়। কিন্তু এটি কবে ঘটেছে এ নিয়ে বিস্তর মতানৈক্য রয়েছে। কারও মতে হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে, কারও মতে তিন বছর পূর্বে, কারও মতে দেড় বছর পূর্বে, কারও মতে এক বছর পূর্বে, কারও মতে ছয় মাস পূর্বে। অনুরূপ কোন মাসে হয়েছে এ নিয়েও অনেক মত পাওয়া যায়। কারও মতে কারও মতে রবিউল আওয়ালে, কারও মতে রবিউল আখিরে, কারও মতে রজবে, কারও মতে রমজানে আর কারও মতে শাওয়ালে। এভাবে দিন বা তারিখ নিয়েও অনেক মত পাওয়া যায়।

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন :

وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي وَقْتِ الْمِعْرَاجِ فَقِيلَ كَانَ قَبْلَ الْمَبْعَثِ وَهُوَ شَاذٌّ إِلَّا إِنْ حُمِلَ عَلَى أَنَّهُ وَقَعَ حِينَئِذٍ فِي الْمَنَامِ كَمَا تَقَدَّمَ وَذَهَبَ الْأَكْثَرُ إِلَى أَنَّهُ كَانَ بَعْدَ الْمَبْعَثِ ثُمَّ اخْتَلَفُوا فَقِيلَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِسَنَةٍ قَالَه بن سعد وَغَيره وَبِه جزم النَّوَوِيّ وَبَالغ بن حَزْمٍ فَنَقَلَ الْإِجْمَاعَ فِيهِ وَهُوَ مَرْدُودٌ فَإِنَّ فِي ذَلِكَ اخْتِلَافًا كَثِيرًا يَزِيدُ عَلَى عَشَرَةِ أَقْوَال مِنْهَا مَا حَكَاهُ بن الْجَوْزِيِّ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَهَا بِثَمَانِيَةِ أَشْهُرٍ وَقِيلَ بِسِتَّةِ أَشْهُرٍ وَحَكَى هَذَا الثَّانِيَ أَبُو الرَّبِيعِ بن سَالم وَحكى بن حَزْمٍ مُقْتَضَى الَّذِي قَبْلَهُ لِأَنَّهُ قَالَ كَانَ فِي رَجَبٍ سَنَةَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ مِنَ النُّبُوَّةِ وَقِيلَ بِأَحَدَ عَشَرَ شَهْرًا جَزَمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ حَيْثُ قَالَ كَانَ فِي رَبِيعٍ الْآخِرِ قبل الْهِجْرَة بِسنة وَرجحه بن الْمُنِيرِ فِي شَرْحِ السِّيرَةِ لِابْنِ عَبْدِ الْبَرِّ وَقيل قبل الْهِجْرَة بِسنة وشهرين حَكَاهُ بن عَبْدِ الْبَرِّ وَقِيلَ قَبْلَهَا بِسَنَةٍ وَثَلَاثَةِ أَشْهُرٍ حَكَاهُ بن فَارِسٍ وَقِيلَ بِسَنَةٍ وَخَمْسَةِ أَشْهُرٍ قَالَهُ السُّدِّيُّ وَأَخْرَجَهُ مِنْ طَرِيقِهِ الطَّبَرِيُّ وَالْبَيْهَقِيُّ فَعَلَى هَذَا كَانَ فِي شَوَّالٍ أَوْ فِي رَمَضَانَ عَلَى إِلْغَاءِ الْكَسْرَيْنِ مِنْهُ وَمِنْ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ وَبِهِ جَزَمَ الْوَاقِدِيُّ وَعَلَى ظَاهِرِهِ يَنْطَبِقُ مَا ذَكَرَهُ بن قُتَيْبَة وَحَكَاهُ بن عَبْدِ الْبَرِّ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَهَا بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ شهرا وَعند بن سعد عَن بن أَبِي سَبْرَةَ أَنَّهُ كَانَ فِي رَمَضَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا وَقِيلَ كَانَ فِي رَجَب حَكَاهُ بن عَبْدِ الْبَرِّ وَجَزَمَ بِهِ النَّوَوِيُّ فِي الرَّوْضَةِ وَقيل قبل الْهِجْرَة بِثَلَاث سِنِين حَكَاهُ بن الْأَثِيرِ وَحَكَى عِيَاضٌ وَتَبِعَهُ الْقُرْطُبِيُّ وَالنَّوَوِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ أَنَّهُ كَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِخَمْسِ سِنِينَ وَرَجَّحَهُ عِيَاضٌ وَمَنْ تَبِعَهُ.

‘মিরাজের সময় নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারও মতে এটা নবুওয়াতের পূর্বেই হয়েছে। কিন্তু এটা অত্যন্ত দুর্বল ও বিচ্ছিন্ন মত। তবে স্বপ্নে দেখা উদ্দেশ্য নিলে ঠিক আছে; যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। আর অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে এটা নবুওয়াতপ্রাপ্তির পরে হয়েছে। এরপর তারা আবার মতভেদ করেছেন। কারও মতে এটা হিজরতের এক বছর পূর্বে হয়েছে। ইমাম ইবনে সাদ রহ.-সহ প্রমূখ এমনই বলেছেন। ইমাম নববি রহ. এটাকেই চূড়ান্ত বলেছেন। আর ইমাম ইবনে হাজাম রহ. তো অতিরঞ্জিত করে এ মতের ব্যাপারে ইজমার দাবি করেছেন। কিন্তু ইজমার দাবি পুরোই ভুল। কেননা, এ ব্যাপারে দশেরও অধিক মত পাওয়া যায়, যার কয়েকটি ইমাম ইবনে জাওজি রহ. বর্ণনা করেছেন যে, হিজরতের আট মাস পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে এবং কারও মতে ছয় মাস পূর্বে। এ দ্বিতীয় মতটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আবুর রবি বিন সালিম রহ.। আর এর পূর্বের উক্তির দাবিকৃত মতটি বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনে হাজাম রহ.। কেননা, তিনি বলেছেন, মিরাজ সংঘটিত হয়েছে নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরের রজব মাসে। কারও মতে এগারো মাস আগে। ইমাম ইবরাহিম হারবি রহ. এটাকে চূড়ান্ত মত বলেছেন। কেননা, তিনি বলেছেন, মিরাজ সংঘটিত হয়েছে হিজরতে এক বছর পূর্বে রবিউল আখিরে। ইমাম ইবনে আব্দুল বার বিরচিত “আস-সিরাহ” এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইমাম ইবনে মুনির রহ. এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। কারও মতে হিজরতের এক বছর দুমাস পূর্বে। ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. এ মতটি বর্ণনা করেছেন। কারও মতে হিজরতের এক বছর তিন মাস পূর্বে। ইমাম ইবনে ফারিস রহ. এ মতটি বর্ণনা করেছেন। কারও মতে হিজরতের এক বছর পাঁচ মাস পূর্বে। ইমাম সুদ্দি রহ. এ মতটি বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে ইমাম তাবারি রহ. ও ইমাম বাইহাকি রহ. বর্ণনাটি রিওয়ায়াত (বর্ণনা) করেছেন। এ মতানুসারে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে রমজানে অথবা রবিউল আওয়াল ও রমজানের ভগ্নাংশ দুটি বাদ দিলে শাওয়ালে। ইমাম ওয়াকিদি রহ. এ মতটিকে চূড়ান্ত বলেছেন। এ মতের সাথে মিলে যায় যা ইমাম কুরতুবি রহ. উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম ইবনে আব্দুল বার রহ. বর্ণনা করেছেন যে, হিজরতের আঠারো মাস পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে। ইমাম ইবনে সাদ রহ. এর বর্ণনায় ইবনে আবু সাবরা রহ. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মিরাজ হিজরতের আঠারো মাস পূর্বে রমজান মাসে সংঘটিত হয়েছে। কারও মতে মিরাজ রজব মাসে সংঘটিত হয়েছে, যা ইমাম ইবনে আব্দুল বার. বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম নববি রহ. তাঁর “রাওজাতুত তালিবিন”-এ চূড়ান্ত মত বলে অভিহিত করেছেন। কারও মতে হিজরতে তিন বছর পূর্বে মিরাজ সংঘটিত হয়েছে,  যা ইমাম ইবনে আসির রহ. উল্লেখ করেছেন। কাজি ইয়াজ রহ. এবং তাঁর অনুসরণে ইমাম কুরতুবি রহ. ও ইমাম নববি রহ. ইমাম জুহরি রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, এটা হিজরতের পাঁচ বছর পূর্বে সংঘটিত হয়েছে। কাজি ইয়াজ রহ. ও তাঁর অনুসারীরা এটাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (ফাতহুল বারি : ৭/২০৩, প্রকাশনী : দারুল মারিফা, বৈরুত)

ইমাম ইবনে জাওজি রহ. বলেন :

وَاتَّفَقَ الْعُلَمَاءُ عَلَى أَنَّ هَذَا الْمِعْرَاجَ كَانَ بِمَكَّةَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ، وَاخْتَلَفُوا فِي الْمُدَّةِ الَّتِي كَانَتْ بَيْنَهُمَا عَلَى أَرْبَعَةِ أَقْوَالٍ: أَحَدُهَا: سَنَةٌ قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ. وَالثَّانِي: سِتَّةُ أَشْهُرٍ. قَالَهُ السُّدِّيُّ. وَالثَّالِثُ: ثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا. قَالَهُ الْوَاقِدِيُّ. ذَكَرَ هَذِهِ الأَقْوَالَ عَنْهُمْ أَبُو حَفْصِ بْنُ شَاهِينَ. وَالرَّابِعُ: ثَمَانِيَةُ أَشْهُرٍ. فَأَمَّا الْهِجْرَةُ فَإِنَّهَا كَانَتْ فِي يَوْمِ الاثْنَيْنِ ثَانِي عَشَرَ رَبِيعِ الأَوَّلِ، أَعْنِي الْيَوْمَ الَّذِي قَدِمَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ. فَعَلَى الْقَوْلِ الأَوَّلِ يَكُونُ الْمِعْرَاجُ فِي رَبِيعٍ الأَوَّلِ. وَعَلَى الثَّانِي وَالثَّالِثِ يَكُونُ فِي رَمَضَانَ. وَعَلَى الرَّابِعِ يَكُونُ فِي رجب. وقد ذكر محمد بن سعد عن الْوَاقِدِيُّ عَنْ أَشْيَاخٍ لَهُ قَالُوا: كَانَ الْمِعْرَاجُ لَيْلَةَ السَّبْتِ لِسَبْعَ عَشْرَةَ لَيْلَةً خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ قَبْلَ الْهِجْرَةِ بِثَمَانِيَةَ عَشَرَ شَهْرًا.

‘উলামায়ে কিরামের এ ব্যাপারে ঐকমত্য আছে যে, এ মিরাজ হিজরতের পূর্বে মক্কায় থাকাকালীন সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু হিজরত ও মিরাজের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যাপারে তাদের চারটি মত রয়েছে। এক. এক বছর। এটা ইবনে আব্বাস রা.-এর মত। দুই. ছয় মাস। এটা সুদ্দি রহ.-এর মত। তিন. আঠারো মাস। এটা ইমাম ওয়াকিদি রহ.-এর মত। তাঁদের থেকে এ মতগুলো ইমাম আবু হাফস শাহিন রহ. উল্লেখ করেছেন। চার. আট মাস। এদিকে হিজরত হয়েছে রবিউল আউয়ালের দ্বাদশ দিবসে সোমবার। অর্থাৎ এদিনেই তিনি মদিনায় পৌঁছেন। সুতরাং প্রথম মতানুসারে মিরাজ রবিউল আওয়াল মাসে হয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মতানুসারে রমজান মাসে হয়েছে। আর চতুর্থ মতানুসারে রজব মাসে হয়েছে। ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাদ রহ. ইমাম ওয়াকিদি রহ. সূত্রে তাঁর উস্তাদদের থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁরা বলেছেন, হিজরতের আঠারো মাস পূর্বে রমজানের সতেরো তারিখে রোববার রাতে মিরাজ সংঘটিত হয়।’ (আত-তাবসিরা, ইবনুল জাওজি : ২/৩৩-৩৪, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত)

ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি রহ. বলেন :

وقد روي: أنه في شهر رجب حوادث عظيمة ولم يصح شيء من ذلك فروي: أن النبي صلى الله عليه وسلم ولد في أول ليلة منه وأنه بعث في السابع والعشرين منه وقيل: في الخامس والعشرين ولا يصح شيء من ذلك وروى بإسناد لا يصح عن القاسم بن محمد: أن الإسراء بالنبي صلى الله عليه وسلم كان في سابع وعشرين من رجب وانكر ذلك إبراهيم الحربي وغيره

‘বর্ণিত আছে যে, রজব মাসে অনেক বড় বড় ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু এর একটিও বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়। যেমন বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ সা. এ মাসের প্রথম রাতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং এ মাসের সাতাশ তারিখে তিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হন, কারও মতে পঁচিশ তারিখে। এর কোনোটিই বিশুদ্ধভাবে সাব্যস্তৰ নয়। অনুরূপ অশুদ্ধ সূত্রে কাসিম বিন মুহাম্মাদ রহ. থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সা.-এর মিরাজ রজবের সাতাশ তারিখে হয়েছে। ইমাম ইবরাহিম রহ.-সহ প্রমূখ এটা খণ্ডন করেছেন।’ (লাতায়িফুল মাআরিফ : ১২১, প্রকাশনী : দারু ইবনি হাজাম)

মূলত এগুলোর কোনোটির পক্ষেই প্রমাণযোগ্য কোনো বৰর্ণনা বা হাদিস পাওয়া যায় না। তাই ২৭শে রজবকে শবে মিরাজ মনে করার কোনো অবকাশ নেই।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন :

هَذَا إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ الْإِسْرَاءِ تُعْرَفُ عَيْنُهَا، فَكَيْفَ وَلَمْ يَقُمْ دَلِيلٌ مَعْلُومٌ لَا عَلَى شَهْرِهَا وَلَا عَلَى عَشْرِهَا وَلَا عَلَى عَيْنِهَا، بَلِ النُّقُولُ فِي ذَلِكَ مُنْقَطِعَةٌ مُخْتَلِفَةٌ لَيْسَ فِيهَا مَا يُقْطَعُ بِهِ،

‘এটা তখনই ঠিক হতো, যখন মিরাজের রাত নির্দিষ্টভাবে জানা থাকত। অথচ এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত কোনো প্রমাণ নেই, না এর মাসের ব্যাপারে, না এর দশকের ব্যাপারে আর না নির্দিষ্ট কোনো দিনের ব্যাপারে; বরং এ ব্যাপারে সকল বর্ণনাই সূত্রবিচ্ছিন্ন ও মতানৈক্যপূর্ণ, যার কোনোটিই সুনিশ্চিত নয়। (জাদুল মাআদ : ১/৫৮, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত)

সুতরাং শবে মিরাজ যেহেতু নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিতই নয়, তাই বিশেষ কোনো রাতকে শবে মিরাজ বানিয়ে তাতে বিশেষভাবে ইবাদত করা বিদআত বা দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কার বলে বিবেচিত হবে। আর শরিয়তে বিদআত জঘন্যতম একটি গোনাহ ও প্রত্যাখ্যাত কর্ম।

যেমন সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে :

 حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ القَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ، فَهُوَ رَدٌّ.

‘আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু আবিষ্কার করল, যা দ্বীনের অংশ নয় তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত। (সহিহুল বুখারি : ৩/১৮৪, হা. নং ২৬৯৭)

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে :

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ، وَعَلَا صَوْتُهُ، وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ، حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ… وَيَقُولُ: أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَخَيْرُ الْهُدَى هُدَى مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَة.

‘জাবির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. যখন খুতবা (ভাষণ) দিতেন তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় রক্তিম বর্ণ ধারণ করত, কণ্ঠস্বর জোরালো হতো, তাঁর রাগ বেড়ে যেত; এমনকি মনে হতো, তিনি যেন শত্রুবাহিনী সম্পর্কে সতর্ক করছেন …এবং বলতেন, সর্বনিকৃষ্ট কর্ম হলো বিদআত বা দ্বীনের নামে নবআবিস্কৃত কাজ। আর প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহি। (সহিহু মুসলিম : ২/৫৯২, হা. নং ৮৬৭)

মোটকথা, শবে মিরাজ কবে সংঘটিত হয়েছে, এ ব্যাপারে নির্দিষ্টভাবে কোনো মাস বা তারিখ বলার সুযোগ নেই। শবে মিরাজ চূড়ান্তভাবে নির্দিষ্ট না হওয়া এটাই প্রমাণ করে যে, রাসুলুল্লাহ সা. ও তাঁর সাহাবায়ে কিরাম রা.-এর কাছে এ দিবসের আলাদা কোনো গুরুত্ব ছিল না। আর এজন্যই এর তারিখ চূড়ান্তভাবে বের করা পরবর্তী লোকদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেছে।

Top