যেমন হওয়া প্রয়োজন আমাদের পরিবার

ইসলাম আমাদের প্রথমে নিজ বাড়িতে দাওয়াত বা ইসলাহের কথা করতে বলে। তারপর প্রতিবেশি বা সমাজে। কারণ, প্রত্যেকে নিজের বাড়ি থেকে অনৈসলামিক কালচার দূর করা গেলে এবং ইসলামী কালচারে পরিবার গড়তে পারলে সমাজ আপনা থেকেই ঠিক হয়ে যাবে। আদর্শ পরিবার ও পরিবেশ সম্পর্কীত কিছু তথ্য কুরাআন এবং হাদীস থেকে তুলে ধরলাম। আশা করি অনেকেই উপকৃত হবেন।

হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে অগ্নি হতে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ এবং প্রস্তর। যার নিয়ন্ত্রণভার অর্পিত আছে নির্মমহৃদয় কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণের উপর। আল্লাহ তাদেরকে যা আদেশ করেন তা অমান্য করেনা এবং যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে। (কুর’আন; ৬৬/৬)

প্রিয় নবী (সা.) বলেন – ‘অবশ্যই আল্লাহ প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তির নিকট থেকে তার দায়িত্বশীলতা প্রসঙ্গে কৈফিয়াত নেবেন; সে তা যথার্থভাবে পালন করেছে নাকি অবহেলা প্রদর্শন করেছে? এমন কি বাড়ির কর্তার নিকট থেকে আর পরিবারের লোকজনদের ব্যাপারেও কৈফিয়ত নেবেন’। (নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, সহীহ জামে/১৭৭৪)

নবী (সা.) বলেন – ‘যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদেরকে মুগ্ধ করে তার সহিত (তোমাদের ছেলে কিংবা মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর (দ্বীন ও চরিত্র না দেখে বংশ, রুপ বা ধনসম্পত্তির লোভে বিবাহ দাও) তবে পৃথিবীতে বড় ফিতনা ও ফাসাদ, বিঘ্ন ও অশান্তি সৃষ্টি হবে’। [ইবনে মাজাহ/১৯৬৭]

ইমাম কাতাদাহ (রহ.) বলেন – ‘গৃহস্বামী তাদেরকে আল্লাহর আনুগত্য করার আদেশ করবে, তাঁর অবাধ্যতা করতে নিষেধ করবে, আল্লাহর অনুশাসন দ্বারা তাদের তত্ত্বাবধান করবে ও তা মান্য করার আদেশ দিবে এবং এ বিষয়ে তাদের সহায়তা করবে। অতএব যখন তাদের কোন পাপ কাজে লিপ্ত দেখবে, তখন শাসন ও তিরস্কার করবে’।

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যারা ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে চাই, ইসলামী বিপ্লব আনতে চাই কিন্তু নিজ পরিবারের দিকে ভ্রুক্ষেপই করিনা। এমন নয় যে আপনার কথাতে পরিবারের সকলে ঠিক হয়ে যাবে, অনেক নবীও নিজ পরিবারকে ঠিক করতে পারেননি। কিন্তু তাদের কাছে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ (সা.) এর কথা পৌঁছে দেওয়া আপনার কর্তব্য।

Related posts

Top