রোযা : শাওয়ালের ছয় রোযার ফযীলত

প্রশ্ন : আমাদের এলাকার মহিলারা শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখে। তারা এর ফযীলত হিসেবে বলে যে, এতে নাকি সারা বছরের রোযা রাখার সওয়াব পাওয়া যায়। আমার জানার বিষয় হলো তাদের এ কথা কি ঠিক আছে? যদি ঠিকই হয় তাহলে এ রোযার সাথে এক বছরের রোযার ফযীলত পাওয়ার সম্পর্ক কী- দয়া করে তা একটু বুঝিয়ে বলবেন।

উত্তর : হ্যাঁ, আপনাদের এলাকার মহিলাদের উক্ত আমল হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সুনানে তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ

অর্থাৎ আবু আইয়ূব আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখবে, অতঃপর সাথে শাওয়ালের ছয়টি রোযা রাখবে তাহলে তা সারা বছরের রোযার সওয়াব সমতূল্য হবে। (সুনানে তিরমিযী: ২/১২৪, হা. নং ৭৫৯)

এ ছয়টি রোযার বিনিময়ে সারা বছরের রোযা রাখার সওয়াব পাওয়ার ব্যাখ্যা হলো, রমযানের ত্রিশটি রোযা এবং শাওয়ালের ছয়টি রোযা মিলে তার মোট রোযা হয় ছত্রিশটি। আর আল্লাহ তাআলা কুরআনে একটি নেক আমলের বিনিময়ে দশগুণ সওয়াব দান করার কথা বলেছেন। ইরশাদ হচ্ছে-

مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا

অর্থাৎ যে একটি নেককাজ করলো তার জন্য এর দশগুণ সওয়াব রয়েছে। (সূরা আনআম : ১৬০) তাহলে ছত্রিশটি রোযায় ৩৬দ্ধ১০ মোট ৩৬০টি রোযার সওয়াব হচ্ছে। আর আরবী বর্ষ হয় ৩৫৫ দিনে। সুতরাং এতে রমযানের রোযা রাখার পর শাওয়ালের ছয় রোযা রাখলে এক বছরের রোযার সওয়াব পাওয়ার ব্যাখ্যা বের হয়ে আসে। একটি হাদীসেও এক বছরের সওয়াব পাওয়ার কারণ হিসেবে উপরোক্ত ব্যাখ্যার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

সুনানে ইবনে মাজাহর বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ ثَوْبَانَ، مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: مَنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ كَانَ تَمَامَ السَّنَةِ، مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا

অর্থাৎ  রাসূল সা.-এর আযাদকৃত দাস সাওবান রাযি. সূত্রে রাসূল সা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রোযার ঈদেও পর ছয়টি রোযা রাখবে তাহলে তা সারা বছরের রোযার সওয়াব সমতূল্য হবে। যে একটি নেককাজ করলো তার জন্য এর দশগুণ সওয়াব রয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ : ১/৫৪৭, হা. নং ১৭১৫)

Top