শিশুদের প্রতি মায়ের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সুন্দর ও আদর্শ জীবন গঠনে আদর্শ মায়ের বিকল্প নেই।  যে মা তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে জানে এবং তার ওপর অর্পিত আমানতকে অনুধাবন করে; যে নিজের পথ দেখতে পায় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিজের সন্তানকেও পথ দেখানোর পরিপূর্ণ অধিকার রাখে। আর একজন স্বার্থক ও সফল মা সে-ই, যে তাঁর সন্তানকে আদর্শ সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।

তাওহিদের শিক্ষা দেয়া: সন্তানকে তাওহিদ তথা একত্ববাদের ভিত্তিতে কথা বলার ওপর অভ্যস্ত করানো এবং তার প্রাণে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন বিষয়াদির বীজ বপন করা।  বিশেষ করে প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যেই তাকে উত্তম কথা ও কাজের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। গবেষণায় দেখা যায়- ‘শিশুদের প্রথম বছরগুলোতেই তারা পূর্বপুরুষদের অধিকাংশ চিন্তা-চেতনার আলোকে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।  প্রায় ৯০ ভাগ শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম তার প্রথম বছরগুলোতেই সম্পন্ন হয়।  সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, মায়ের কাছে থাকাকালীন এই সময়কালকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো। এ কারণেই ইবনুল জাউযি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, ‘ছোট বয়সে যা হয়, তাকেই আমি বেশি মূল্যায়ন করি। কেননা যখন সন্তানকে তার স্বভাবের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়, তখন সে তার ওপরই বেড়ে উঠে; আর স্বভাব একটি কঠিন বিষয়।

জিকিরের শিক্ষা দেয়া: শিশুর সামনে প্রথম থেকেই বেশি বেশি জিকির করা।  বিশেষ করে এ জিকিরসমূহ উচ্চারণে অভ্যস্ত করানো একান্ত জরুরি।  لا إله الا الله, محمد رسول الله অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল; سبحان الله অর্থাৎ আল্লাহ পবিত্র; الحمد لله অর্থাৎ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; الله أكبر অর্থাৎ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ; لا حول و لا قوة إلا بالله অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো ক্ষমতা নেই এবং কোনো শক্তি নেই ইত্যাদি।

শিশুর মনে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব, ভালোবাসা এবং ভয়ের বীজ বপন করা: শিশুর মনে এ অনুভূতি জাগ্রত করা যে, মানুষের ওপর আল্লাহর নজরদারী ও খবরদারী থাকে সর্বক্ষণ।  শিশুকে ভাল কথা বলার অভ্যাস গঠনের প্রশিক্ষণ দেয়া।  যেমন- أَحْسَنْتَ (তুমি সুন্দর করেছ); شُكْرًا (ধন্যবাদ); جَزَاكَ اللهُ خَيْرًا (আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন)।

দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দোয়াসমূহ শিখানো: যেমন- ঘুমাতে যাওয়া এবং ওঠার দোয়া; খাওয়ার শুরু এবং শেষের দোয়া; ঘর থেকে বের হওয়া এবং বাহির হওয়ার দোয়া; টয়লেটে যাওয়া ও বাহির হওয়ার দোয়া ইত্যাদিতে অভ্যস্ত করানো।

শিশুর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই উন্নত ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের ব্যাপারে আশা-আকাঙ্খা এভাবে জাগিয়ে তোলা: যে, সে মনে মনে পরিকল্পনা স্থির করবে বড় জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতো হবে; প্রাজ্ঞ আলেম হবে; ডাক্তার হবে; ইঞ্জিনিয়ার হবে ইত্যাদি।

শিশুর আগ্রহ ও ইচ্ছাসমূহ প্রকাশ করতে এবং তার আল্লাহ প্রদত্ত মেধাসমূহের বিকাশে উদ্যোগ গ্রহণ করা:  যেমন- যখন দেখা যাবে সে পড়ার প্রতি আগ্রহী, তখনই তাকে সংশ্লিষ্ট বইপত্রের ব্যবস্থা করে দেয়া।  তার আগ্রহ উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে ও তার মেধাশক্তির বিকাশে যথাযথ ভূমিকা রাখা।

সাত বছর বয়সের সময় শিশুর সাথে আচার-আচরণের ক্ষেত্রে নতুন আরেক ধাপের সূচনা করা: প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে বিষয়গুলো ঠিক করে দিয়েছেন। তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়া। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তোমাদের সন্তানদেরকে তোমরা নামাজের নির্দেশ দাও, যখন তারা সাত বছর বয়সে উপনীত হয় এবং যখন তারা দশ বছর বয়সে উপনীত হয়, তখন নামাজ না পড়ার কারণে তাদেরকে প্রহার কর। আর তাদের শোয়ার স্থান পৃথক করে দাও।’ (মুসনাদে আহমদ, আবু দাউদ)

শিশুকে নামাজের নির্দেশের দ্বারা শুরু করা: পর্যায় ক্রমে নামাজের মতো অন্যান্য ইবাদতের প্রতি মনোযোগী করা ও তা পালনে উৎসাহিত করা।  যা প্রতিটি শিশুকে তাঁর নৈকট্য অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।  আল্লাহ্‌ তাআলা দুনিয়ার প্রত্যেক মুসলিম নারীদেরকে আল্লাহর দেয়া সবচেয়ে বড় নিয়ামত তার সন্তানকে নেক ভাবে গড়ে তোলার তাওফিক দান করুক। এ সন্তানদেরকে দুনিয়া শান্তি ও স্বচ্ছলতা ও পরকালের মুক্তি ও কল্যাণ দান করুন।  আমিন।

Top