শিশুর নাম রাখা : একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

শিশুর জন্যে ভালো নাম রাখার চেষ্টা সব বাবা-মায়েরই থাকে। তবে অনেক সময় তারা আদরের বশে কিংবা পরিপার্শ্বিক কোনো কারণে নাম চয়নে ভুল করে ফেলেন; যা তার পরবর্তী ব্যক্তি জীবনে প্রভাব ফেলে। শুরুতেই মনে রাখা দরকার, শব্দটি আরবী অথবা কুরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামি বা সুন্দর নাম হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয় । কুরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে। ইবলিস, ফেরাউন, হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কুরআনে উল্লেখ আছে; তাই বলে কী এসব নামে নাম রাখা সমীচীন হবে!?

হাদিসে আছে, ব্যক্তির নাম তার স্বভাব চরিত্রের উপর ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে । শাইখ বকর আবু যায়েদ বলেন, ঘটনাক্রমে দেখা যায় ব্যক্তির নামের সাথে তার স্বভাব ও বৈশিষ্ট্যের মিল থাকে। এটাই আল্লাহর তাআলার হেকমতের দাবী। যে ব্যক্তির নামের অর্থে চপলতা রয়েছে তার চরিত্রেও চপলতা পাওয়া যায়। যার নামের মধ্যে গাম্ভীর্যতা আছে তার চরিত্রে গাম্ভীর্যতা পাওয়া যায়। খারাপ নামের অধিকারী লোকের চরিত্রও খারাপ হয়ে থাকে। ভাল নামের অধিকারী ব্যক্তির চরিত্রও ভাল হয়ে থাকে।

রাসূল (সা.) কারো ভাল নাম শুনে আশাবাদী হতেন। হুদাইবিয়ার সন্ধিকালে মুসলিম ও কাফের দুইপক্ষের মধ্যে টানাপোড়নের এক পর্যায়ে আলোচনার জন্য কাফেরদের প্রতিনিধি হয়ে সুহাইল ইবনে ‘আমর নামে এক ব্যক্তি এগিয়ে এল তখন রাসূল (সা.) সুহাইল নামে আশাবাদী হয়ে বলেন, সুহাইল তোমাদের জন্য সহজ করে দিতে এসেছেন।

সুহাইল শব্দটি সাহলুন (সহজ) শব্দের ক্ষুদ্রতানির্দেশক রূপ। যার অর্থ হচ্ছে- অতিশয় সহজকারী। বিভিন্ন কবিলার ভালো অর্থবোধক নামে রাসূল (সা.) আশাবাদী হওয়ার নজির আছে। তিনি বলেছেন, গিফার (ক্ষমা করা) কবিলা তথা গোত্রের লোকদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিন। আসলাম (আত্মসমর্পণকারী/শান্তিময়) কবিলা বা গোত্রের লোকদেরকে আল্লাহ শান্তি দিন।

যদি ছোটোবেলায় কোনো কারণে সুন্দর অর্থবোধক নাম না রাখা হয়ে থাকে, সে-ক্ষেত্রেও সমস্যার কিছু নেই । যখন জানা যাবে যে, নামটি সুন্দর নয়, তখন পাল্টে নিলেই চলবে। রাসুল (সা.) অনেক সাহাবির নাম পাল্টে দিয়েছেন। অনেকে আবার নিজেদের নামও পাল্টে নিয়েছেন । সুতরাং প্রতিটি মুসলিমের উচিত, নিজের নামের বিষয়ে সচেতন হওয়া । ###

Related posts

Top