সম্পদের অপচয় একটি গর্হিত কাজ [প্রথম পর্ব]

সাম্প্রতিক সময়ে ধনসম্পদের অযাচিত পন্থায় অপচয় করা একটি স্বাভাবিক বাস্তবতা। অথৈ সম্পদের মালিক যখন নীতি-নৈতিকতা ভুলে গিয়ে অযাচিতভাবে সম্পদের অপব্যবহার শুরু করে তখন তার সম্পদ হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে আর সময় লাগে না। এজন্য মহান রাব্বুল আলামীন কর্তৃক অপচয়কারীকে বলা হয়েছে শয়তানের ভাই। ইরশাদ হয়েছে, وَ اٰتِ ذَا الْقُرْبٰی حَقَّهٗ وَ الْمِسْكِیْنَ وَ ابْنَ السَّبِیْلِ وَ لَا تُبَذِّرْ تَبْذِیْرًا.  اِنَّ الْمُبَذِّرِیْنَ كَانُوْۤا اِخْوَانَ الشَّیٰطِیْنِ، وَ كَانَ الشَّیْطٰنُ لِرَبِّهٖ كَفُوْرًا. অর্থাৎ, আত্মীয়কে তার প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও মুসাফিরকেও; তবে কিছুতেই অপব্যয় করো না। সন্দেহ নেই, যারা অপব্যয় করে তারা শয়তানের ভাই, আর শয়তান তার প্রভুর প্রতি অতিশয় অকৃতজ্ঞ! -সূরা বনী ইসরাঈল : ২৬-২৭

এটা হলো অপচয়ের পরিণাম! প্রকৃতপক্ষে ধনসম্পদ মহান রব কর্তৃক প্রদত্ত মহা নিয়ামত। তিনি সকল মানুষকে অধিক ধন-সম্পদের মালিক বানান না। কাউকে বেশী এবং কাউকে স্বল্প সম্পদের অধিকারী করেন। এ ব্যবস্থাপনাও মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের। ইরশাদ হয়েছে, اَهُمْ یَقْسِمُوْنَ رَحْمَتَ رَبِّكَ، نَحْنُ قَسَمْنَا بَیْنَهُمْ مَّعِیْشَتَهُمْ فِی الْحَیٰوةِ الدُّنْیَا وَ رَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّیَتَّخِذَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا سُخْرِیًّا. অর্থাৎ, এরা কি তোমার প্রভুর করুণা বণ্টন করে? আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি, পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি, যেন একে অপরের দ্বারা কাজ করিয়ে নিতে পারে। -সূরা যুখরুফ : ৩২

পার্থিব জীবন পরিচালনা করতে গেলে সম্পদের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করতেই হয়। এটা আল্লাহর প্রদত্ত আরেকটি নেজাম। তিনিই একে আমাদের এ জীবনের বাহ্যিক অবলম্বন বানিয়েছেন। এর সঠিক ও যথার্থ ব্যবহার যদি করা না হয় তাহলে একদিকে যেমন তাঁর দেয়া নিআমতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা হবে, আবার আমাদের পার্থিব জীবনের অবলম্বনও নষ্ট হবে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- لَىِٕنْ شَكَرْتُمْ لَاَزِیْدَنَّكُمْ وَ لَىِٕنْ كَفَرْتُمْ اِنَّ عَذَابِیْ لَشَدِیْدٌ. অর্থাৎ, তোমরা যদি (আমার নিয়ামতের) কৃতজ্ঞতা আদায় কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে (জেনে রেখো,) আমার শাস্তি অবশ্যই অত্যন্ত কঠিন! -সূরা ইবরাহীম : ৭

মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের প্রতি দয়া ও মেহেরবানী করে সম্পদ দান করেন, এজন্য যেমনিভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে, তেমনি এর ব্যয়ক্ষেত্রও হতে হবে আল্লাহ তায়লার নির্দেশনা মোতাবেক। অপ্রয়োজনে যেমন এ সম্পদ উড়ানো যাবে না, তেমনি অবৈধ প্রয়োজনেও তা ব্যয় করা যাবে না। নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হলে এ উভয় দিক অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে। অযথা ও অবৈধ খরচ থেকে বেঁচে থাকতে হবে।

এতিম শিশুর সম্পদ সংরক্ষণের বিষয়ে কুরআনুল কারীমের আরেক নির্দেশনা হলো- কারও হাতে যদি কোনো এতিম শিশুর সম্পদ থাকে, তাহলে সে যেন তা যথাযথ সংরক্ষণ করে এবং সে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে যেন তার সম্পদ তার হাতে তুলে না দেয়। এতে যথেষ্ট আশংকা রয়েছে-সে বয়স ও অভিজ্ঞতার অভাবে তার এ সম্পদ অপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যয় করে নষ্ট করে ফেলবে, তার সম্পদের সে অপব্যবহার করবে। ইরশাদ হয়েছে, وَ لَا تُؤْتُوا السُّفَهَآءَ اَمْوَالَكُمُ الَّتِیْ جَعَلَ اللهُ لَكُمْ قِیٰمًا وَّ ارْزُقُوْهُمْ فِیْهَا وَ اكْسُوْهُمْ وَ قُوْلُوْا لَهُمْ قَوْلًا مَّعْرُوْفًا، وَ ابْتَلُوا الْیَتٰمٰی حَتّٰۤی اِذَا بَلَغُوا النِّكَاحَ ۚ فَاِنْ اٰنَسْتُمْ مِّنْهُمْ رُشْدًا فَادْفَعُوْۤا اِلَیْهِمْ اَمْوَالَهُمْ. অর্থাৎ, তোমরা নির্বোধদের হাতে তোমাদের সম্পদ অর্পন করো না, যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে টিকে থাকার মাধ্যম বানিয়েছেন; তা থেকে তাদের জীবিকা ও পোশাকের ব্যবস্থা করো এবং তাদের সঙ্গে সুন্দর কথা বলো। আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করো, অবশেষে তারা যখন বিয়ের বয়সে পৌঁছে, তখন যদি তাদের মাঝে ভালো-মন্দ বিচারের জ্ঞান উপলব্ধি কর তাহলে তাদের সম্পদ তাদের হাতে অর্পণ করো। -সূরা নিসা : ৫-৬

[চলবে…]

Related posts

Top