স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ইসলাম

‘সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ সুস্বাস্থ্য বলতে আমরা বুঝি নিরোগ ও সতেজ দেহ। এটি পার্থিব উন্নতির জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনি কল্যাণময় পরকালের জন্যও। আর সুস্থ থাকার প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো রোগমুক্ত থাকা। মানুষের রোগ সৃষ্টির ব্যাপারে ইসলাম ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী, সে সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। রোগের ব্যাপারে বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা হলো- পরিবেশগত কারণেই মানুষের রোগ হয়। মানুষের আশপাশের পরিবেশ যখন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং শরীরে যখন ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তখনই মানুষ নানামুখী সমস্যায় পড়ে। অর্থাৎ রোগে আক্রান্ত হয়। রোগের ব্যাপারে ইসলামের বক্তব্য কি? এ ব্যাপারে ইসলামের ভাষ্য হলো- মানুষ যখন অন্যায় ও পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন আল্লাহ তায়ালা তার মধ্যে রোগ দেন, যাতে সে পাপাচারমুক্ত হয় এবং এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে চলে। এ ব্যাপারে সুরা রুমের ১৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের কারণে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। আল্লাহ তায়ালা তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।  অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে, পরকালের কঠিন শাস্তির আগে দুনিয়াতে আমি তাদের কিছু শাস্তি দিয়ে থাকি, যেন তারা অনুতপ্ত হয় এবং পাপ কাজ থেকে বিরত থাকে।

 

রোগের ব্যাপারে হাদিসেও বিভিন্ন আলোচনা উল্লেখ রয়েছে- হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুল (সা.) বলেন, হে মুহাজির সম্প্রদায়! এমন পাঁচটি অভ্যাস রয়েছে, সেগুলো যেন তোমাদের মধ্যে পাওয়া না যায়, সে জন্য আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে অশ্লীলতা। যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লীলতা প্রকাশ পায়, তখন তাদের মাঝে প্লেগ ও বিভিন্ন ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি মহামারী আকারে বিস্তার লাভ করবে, যা তাদের পূর্বপুরুষ কখনো শোনেনি।

 

মানবদেহে রোগের বিস্তার সম্পর্কে কোরান, হাদিস ও বিজ্ঞানের দুটি ধারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যেমন পাপাচার-অশ্লীলতার কারণে রোগাক্রান্ত হয়, তেমনি পরিবেশগত কারণেও এমন হয়ে থাকে। তবে পরিবেশ নষ্টের কারণ কিন্তু মানুষই। মানুষ প্রতিনিয়ত অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে তার চারপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। নবি করিম (সা.) এ ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর কাছে তোমরা সুস্বাস্থ্য প্রার্থনা কর, কারণ ইমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে অধিক মঙ্গলজনক কোনো কিছু কাউকে দান করা হয়নি (ইবনে মাজাহ)।

মানব জীবনের অন্যতম নেয়ামত স্বাস্থ্য। এটি এমন এক সম্পদ যা আমাদের ব্যবহারিক জীবনের অনেক ক্ষেত্রে এমনকি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্যও জরুরি।  ইসলামের বিধি-বিধানগুলো সুন্দরভাবে পালন করার জন্যও স্বাস্থ্য ও সুস্থতা প্রয়োজন। কারণ শারীরিক শক্তি ও মানসিক মনোবল ছাড়া ইবাদতেও মন বসে না। তাছাড়া আল্লাহর পথে সংগ্রাম করার জন্যও শক্তি ও স্বাস্থ্য প্রয়োজন। তাই সুস্থ সবল মুমিন আল্লাহর কাছে অবশ্যই অধিক প্রিয়। রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দুর্বল মুমিনের তুলনায় শক্তিশালী মুমিন অধিক কল্যাণকর ও আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়। তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হদিস নং ৬৯৪৫)
অন্য হাদিসে আছে, ‘দুটি নেয়ামতের বিষয়ে অধিকাংশ মানুষ অসতর্ক ও প্রতারিত। সুস্থতা ও অবসর। (বুখারি শরিফ ৫/২৩৫৭)

ইসলামের দৃষ্টিতে, অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করার চেয়ে সুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উত্তম। ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, ‘রোগ প্রতিরোধ রোগ নিরাময়ের চেয়ে উত্তম’। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এই যুগে বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করছে মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে তা বলে গেছেন। তিনি ঘোষণা করে গেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দাকে নেয়ামত সম্পর্কে সর্বপ্রথম যে প্রশ্নটি করা হবে তা হলো তার সুস্থতা সম্পর্কে। তাকে বলা হবে আমি কি তোমাকে শারীরিক সুস্থতা দিইনি? (সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং ৩৩৫৮)

 

রোগাক্রান্ত হলে অনতিবিলম্বে চিকিৎসা গ্রহণ করা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে জরুরি। চিকিৎসা গ্রহণকে তাকওয়া পরিপন্থী মনে না করে আরোগ্য লাভের জন্য চিকিৎসা গ্রহণ করার জন্য রোগীকে উৎসাহিত করেছে ইসলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করতেন। লোকদের চিকিৎসা নিতে উৎসাহিত করতেন। তিনি বলতেন, ‘হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর, কেননা মহান আল্লাহ তায়ালা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি। তবে একটি রোগ আছে যার কোনো প্রতিষেধক নেই, তাহলো বার্ধক্য।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৮৫৭)

অন্য হাদিসে আছে, ‘হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.)-কে শিঙ্গা প্রদানকারীর শিঙ্গার বিনিময়ে উপার্জন হালাল কিনা জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা গ্রহণ করেন। আবু তায়বাহ তাকে শিঙ্গা লাগান। রাসূলে কারিম (সা.) তাকে দুই সা (একটি নির্দিষ্ট ওজনের নাম) খাদ্যদ্রব্য প্রদানের নির্দেশ দেন এবং তার মালিক পক্ষের সাথে আলোচনা করে তার ট্যাক্সের পরিমাণ কমিয়ে দেন। আর বলেন, যা কিছু দ্বারা তোমরা চিকিৎসা কর তার মধ্যে উত্তম হলো শিঙ্গা লাগানো।’ (মুসলিম শরিফ ২/২২ হাদিস নং ৪০০৭) আরেকটি হাদিসে আছে, ‘হজরত সা’দ (রা.) বলেন, আমি একবার ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে দেখতে এসে তার হাত মোবারক আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি অন্তরে এর শীতলতা অনুভব করি। অতঃপর তিনি বলেন, তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছ। তুমি ছাকীফ গোত্রের হারেস ইবনে কালদার কাছে যাও। সে (এই রোগের) চিকিৎসা করে।’ (আবু দাউদ হাদিস ২/৫৪১, হাদিস নং ৩৮৬৯, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/১৪৪-১৪৫ হাদিস নং ৮৩০০)

রাসূল (সা.) অসুস্থ ব্যক্তিকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা করাতে এবং এ ব্যাপারে সবিশেষ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিতেন। (যাদুল মাআদ) হারাম বস্তু ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তায়ালা  রোগও নাজিল করেছেন রোগের প্রতিষেধকও নাজিল করেছেন। প্রত্যেক রোগের চিকিৎসা রয়েছে। সুতরাং তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ কর। তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা নিয়ো না।’ তিনি আরো ইরশাদ করেন, ‘হারাম বস্তুতে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য আরোগ্য বা রোগমুক্তি রাখেননি।’ এই সব হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, ইসলামের দৃষ্টিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা শুধু বৈধই নয় বরং তা গ্রহণ করাই কাম্য।

 

যেসব কারণে মানুষ অসুস্থ হতে পারে ইসলামি শরিয়ত সেসব থেকে বেঁচে থাকার জোর তাগিদ দিয়েছে। তাই ইসলামি শরিয়ত কর্তৃক নিদের্শিত স্বাস্থ্যনীতি মেনে চলাও অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য জরুরি। মানুষের রোগাক্রান্ত হাওয়ার বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে ইসলাম এবং প্রদান করেছে বিশেষ কিছু দিক-নির্দেশনাও।

এক. খাদ্য-পানীয় মানুষের রোগ-ব্যাধির অন্যতম কারণ। হাদিস শরিফে আছে, ‘পেট সকল রোগের কেন্দ্রস্থল।’ ইসলাম এ বিষয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং অতিভোজন করতে নিরুৎসাহিত করেছে। সাথে সাথে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কোরআনে আছে, ‘তোমরা খাও ও পান কর এবং অপচয় কর না। নিশ্চয় তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সূরা আরাফ, আয়াত নং ৩১) হাদিস শরিফে আছে, রাসূলে কারিম (সা.) বলেছেন, ‘পেটের এক তৃতীয়াংশ খাদ্য দ্বারা, এক তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখবে’। (সুনানে ইবনে মাজা হাদিস নং ৩৩৪৯) রাসূল  (সা.) কখনো মেহমানদারির প্রয়োজন ছাড়া পেটপুরে খেতেন না। পরিমিত খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত হলে সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকা যায়।

দুই. খাদ্যদ্রব্য সর্বদা ঢেকে রাখা ও কিছু পান করার সময় তাতে ফুঁ দেয়া নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এতে রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। অন্য হাদিসে আছে, ‘খবরদার! তোমরা পানিতে ফুঁ দিয়ো না।’ (তিরমিযি শরিফ )

তি. খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধৌত করার প্রতি ইসলামের নির্দেশ রয়েছে। কারণ হাতে বিষাক্ত জীবাণু থাকার কারণে রোগ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চার. শরীর সবল ও সতেজ রাখার জন্য শরীর চর্চামূলক খেলাধুলা, ব্যায়াম ও সাঁতার কাটা ইত্যাদির প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও বিশ্রাম সুস্বাস্থ্যের জন্য অতীব জরুরি। ইসলামে অলসতাকে অত্যন্ত ঘৃণা করা হয়েছে। হাদিস শরিফে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি উৎকণ্ঠা থেকে, মনোকষ্ট থেকে, অলসতা থেকে, কাপুরুষতা থেকে, কৃপণতা থেকে, ঋণগ্রস্ততা থেকে এবং মানুষের কর্তৃত্বাধীন হয়ে যাওয়া থেকে।’ (বুখারি শরিফ ৩/১০৫৯)

পাচ. দৈহিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও জরুরি। বরং মানসিক সুস্থতা দৈহিক সুস্থতার পূর্বশর্ত। কারণ মানসিক প্রশান্তি ও উৎফল্লতা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। মানসিক উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতা দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে। তাই ইসলাম মনোদৈহিক সুস্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে বৈবাহিক জীবন ব্যবস্থার প্রতি খুব গুরুত্ব দিয়েছে। তাছাড়া ইসলামের ইবাদত ব্যবস্থা ও জিকির-আযকারের দ্বারাও মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জেনে রাখ! আল্লাহ তায়ালার জিকির দ্বারা অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সূরা রাদ, আয়াত নং ২৮)

ছয়. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ইসলামের মৌলিক নির্দেশনা ও ঈমানের অঙ্গ। পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতিও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ পরিবেশ দূষণের কারণে মানব সমাজে নানা প্রকার রোগ ছড়ায়। হাদিস শরিফে আছে, রাসূলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তোমাদের বাড়ির আঙ্গিনা সবদিকে পরিষ্কার রাখবে। ইহুদিদের অনুকরণ কর না। তারা বাড়িতে আবর্জনা জমা করে রাখে। (সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং ২৭৯৯) তাছাড়া কেউ যদি মেসওয়াক, অজু, গোসল, পোশাক-আশাক ইত্যাদির ক্ষেত্রে ইসলামি নির্দেশনা মেনে চলে তাহলে সে অপরিচ্ছন্নতাজনিত রোগব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে।

সাত. যত্রতত্র মল-মূত্র ত্যাগ করা নিষেধ করা হয়েছে। কারণ তাতে রোগ-ব্যাধির ছড়ানোর আশঙ্কা  রয়েছে। হাদিস শরিফে আছে, রাসূলে কারিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা তিন অভিশপ্ত ব্যক্তি থেকে বেঁচে থাক, যে পানির ঘাটে, রাস্তার ওপর ও গাছের ছায়ায় মলমূত্র ত্যাগ করে’। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৬)
মোটকথা, মানবতার কল্যাণ ও সফলতার জন্য যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার ইসলাম সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাই কেউ যদি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলে তাহলে সে সুন্দর জীবন যাপন করতে পারবে। এতে সে দুনিয়া-আখেরাতে কামিয়াব হতে পারবে। তাই আমাদের উচিত প্রকৃত মুসলিম হিসবে ইসলাম প্রদত্ত স্বাস্থ্য নীতি মেনে সুন্দর জীবন যাপণে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্ঠা করা। আল্লাহ আমাদের  সবাইকে সঠিক বুঝ ও জ্ঞান দান করুন। আমিন।

Top