হযরত সালমান রা.-এর মতো ঈমান চাই

কাফেররা ইসলাম নিয়ে মশকরা করত। এটা ছিল তাদের অভ্যাস। তারা চাইত এভাবে মুসলমানদেরকে নিচু করবে এবং তাদের মনের জ্বালা মেটাবে। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্যের বরকতে  সাহাবায়ে কেরাম এমন মজবুত ঈমানের অধিকারী হয়েছিলেন যে, তাঁরা কাফেরদের ঐসব বাজে মশকরাকে পাত্তা দিতেন না। তাই কাফেররা তাঁদের সঙ্গে সুবিধা করতে পারত না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সব বিষয়ে উত্তম আদর্শ শিক্ষা দিতেন যেভাবে একজন পিতা তাঁর সন্তানদেরকে শিক্ষা দিয়ে থাকেন।

একদিন এক কাফের নবীজীর  শেখানো   ইস্তেঞ্জার আদব-কায়দার প্রতি কটাক্ষ করে সাহাবী সালমান ফারসী রা.কে বলল, ‘কিহে! তোমাদের নবী নাকি তোমাদের সবকিছুই শেখায়, এমনকি পায়খানা করার নিয়ম পর্যন্ত! ’

হযরত সালমান ফারসী রা. কাফেরের এই কটাক্ষপূর্ণ ও তাচ্ছিল্যপূর্ণ কথায় দুর্বল তো হলেনই না; বরং পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নবীজীর শিক্ষাগুলোই তার সামনে পুনরায় উল্লেখ করে দিলেন। তিনি বললেন, ‘হাঁ, তিনি আমাদেরকে তা শেখান। তিনি আমাদের   বলেছেন,  আমরা  যেন  ইস্তেঞ্জার সময় কিবলামুখী হয়ে না বসি এবং কিবলাকে পিঠ দিয়েও না বসি। আমরা যেন ডানহাত দিয়ে ইস্তেঞ্জা না করি। আমরা যেন পরিষ্কার হওয়ার জন্য অন্তত তিনটি ঢিলা ব্যবহার করি। আর আমরা যেন গোবর বা হাড্ডি দ্বারা ইস্তেঞ্জা না করি।’

সেই মূর্খ কাফের ইস্তেঞ্জার আদব-কায়দার গুরুত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম না হলেও আজকের বিশ্ব তা কিছু কিছু অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে। সু-স্বাস্থের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার এবং প্রয়োজন সারার পর ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়ার প্রতি প্রচন্ড গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই গুরুত্বের কারণে বিশ্বব্যাপী ‘সেনিটেশন দিবস’ পালিত হয়ে থাকে। অথচ আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগেই আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

বিশ্ব যতই জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর হবে ততই নবী-শিক্ষার যথার্থতা প্রতিভাত হবে। মুমিনের জিত এই যে, আগামীকাল যা অন্যরা স্বীকার করবে সে তার স্বীকৃতি আজই দিয়েছে এবং এর পার্থিব সুফলের সঙ্গে ঈমানের সুফলও লাভ করেছে। বস্তুত মুমিনরাই অগ্রগামী।

Related posts

Top